দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জীববৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ম্যানগ্রোভ বন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এই বাঘ বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু বন ধ্বংসের কারণে আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাদ্য সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, চোরা শিকারের কারণে অস্তিত্বের হুমকিতে পড়েছে বনের এই অতন্দ্র প্রহরী।
আজ ২৯ জুলাই, বিশ্ব বাঘ দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’। প্রতি বছর নানা কর্মসূচিতে দিবসটি পালন করা হলেও এবার তেমন কোনো আয়োজন নেই। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের পক্ষ থেকে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, র্যালি ও আলোচনা সভা করা হবে।
বাঘ জরিপের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে ১১৪টির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সবশেষ ২০২৪ সালের ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ১২৫টি। বন বিভাগের হিসাব বলছে, প্রতি ১০০ কিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব প্রায় ২ দশমিক ১৭টি।
সুন্দরবন রক্ষায় ‘আমরা’র সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ জানান, ২০২১-২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পিটিয়ে বা শিকার করে হত্যা করা হয়েছে ৫৮টি। ৩০টির মৃত্যু হয়েছে বার্ধক্যজনিত বা অসুস্থতাজনিত কারণে। আর তিনটির মৃত্যু হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে। তিনি বলেন, একদিকে হরিণ শিকারিদের দাপট, অন্যদিকে বনদস্যুদের বনে অবাধ বিচরণ; দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে বাঘের আবাসস্থল। হরিণ শিকারের ফাঁদে কখনো কখনো বাঘ আটকা পড়ছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক সামিউল হক বলেন, সুন্দরবনে অবাধে বিচরণের জন্য একটি পুরুষ বাঘের টেরিটরি প্রয়োজন ৬০ থেকে ১৫০ বর্গকিলোমিটার। আর স্ত্রী বাঘের জন্য প্রয়োজন ২০ থেকে ৬০ বর্গকিলোমিটার। সুন্দরবনে হরিণ আর বুনো শূকরের মতো শিকার পর্যাপ্ত থাকলে ছোট এলাকায়ও বাঘ টিকে থাকতে পারে। তাই বাঘের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কমাতে হবে হরিণ শিকার।
তিনি আরও বলেন, বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিকার বা পাচার রোধে আইনের সংশোধন করতে হবে। চোরা শিকারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। একই সঙ্গে ক্যামেরা ট্র্যাকিং এবং রেডিও কলারের মাধ্যমে বাঘের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লা হারুন জানান, মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় বাঘের মৃত্যু না হলেও এটি বাঘের বংশ বৃদ্ধি কমার একটি বড় কারণ। এ ছাড়া বাঘ নিরাপদ আবাসস্থল নিয়ে বিপাকে পড়ে। তাই বাঘের বংশ বৃদ্ধি ও বিচরণ নিশ্চিতে সুন্দরবনে অবাধে মানুষের বিচরণ কমাতে হবে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৩৫ হরিণ পাচারকারীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
সম্প্রতি বন রক্ষায় করণীয় শীর্ষক একটি নাগরিক সংলাপে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে কয়েকটি দস্যুদল আত্মসমর্পণ করেছে। হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে হরিণ শিকারির ফাঁদে আটকে আহত হওয়া একটি বাঘকে উদ্ধার করে ছয় মাস চিকিৎসা শেষে আবার পাঠানো হয়েছে সুন্দরবনে। বাঘ হলো সুন্দরবনের প্রধান প্রাণী। তাই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাঘের অস্তিত্ব রক্ষা জরুরি।
কে